إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءقَدِيرٌ
ইন্নাল্লাহা আলা কুল্লি - শাই’ইন কদির
বাংলা অর্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববস্তুর উপর ক্ষমতাবান।”
এই বাক্যটি / আয়াত টি মহাগ্রন্থ আল্ কুরআনের বহু জায়গায় এসেছে (যেমন সূরা আল-বাকারা ২:২০, ২:১০৬, ২:২৮৪, সূরা আলে ইমরান ৩:২৬ ইত্যাদি)।
শব্দগত ব্যাখ্যা:
ইন্নাল্লাহা (إِنَّ اللَّهَ): নিশ্চয়ই আল্লাহ।
আলা (عَلَىٰ): উপর বা উপরস্থ।
কুল্লি শাই’ইন (كُلِّ شَيْءٍ): সব কিছু বা প্রত্যেক বস্তু।
কদির (قَدِيرٌ): সক্ষম, সবকিছুর উপর শক্তিমান ও নিয়ন্ত্রণকারী।
এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা তাঁর এক অনন্য গুণ প্রকাশ করেছেন, আর তা হলো – সর্বশক্তিমত্তা।
আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কোনো কিছুই ঘটে না। তিনি যা চান, তা-ই ঘটে, আর যা চান না, তা কখনোই ঘটে না।
বিশ্বাসগত গুরুত্ব (আকীদা):
এই আয়াতটি ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসগুলোর ভিত্তি তৈরি করে - তাওহিদ অর্থাৎ আল্লাহর একত্ব ও সর্বশক্তিমত্তা।
একজন মুসলমান বিশ্বাস করে:
আল্লাহর জ্ঞান সবকিছুকে পরিব্যাপ্ত করে।
তিনি সবকিছুর স্রষ্টা, রক্ষক ও বিধাতা।
তিনি সময়, স্থান, জীবন, মৃত্যু, ভাগ্য, সৃষ্টি ও ধ্বংস - সবকিছুর উপর নিয়ন্ত্রণকারী।
উদাহরণস্বরূপ:
একজন মানুষ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসতে পারে শুধুমাত্র আল্লাহর ইচ্ছায়।
নিরাশার মুহূর্তে আশার দরজা খুলে দিতে পারেন একমাত্র তিনিই।
জ্ঞানহীনকে জ্ঞানী, দরিদ্রকে ধনী, অসহায়কে শক্তিমান করে তুলতে পারেন শুধুমাত্র আল্লাহ।
বাস্তব জীবনে প্রভাব:
এ আয়াত যদি একজন মুমিন হৃদয়ে ধারণ করে, তবে তার মধ্যে জন্ম নেয় -
তাওয়াক্কুল (আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা)।
সবর (ধৈর্য)
শোকর (কৃতজ্ঞতা)।
ভয় ও আশা - শুধুমাত্র আল্লাহর প্রতি।
মানুষ যখন সমস্যায় পড়ে এবং মনে হয় চারদিক বন্ধ, তখন সে যেন এ কথাটি স্মরণ করে:
“إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ” — অর্থাৎ, "আমার আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান, তিনিই আমার জন্য পথ খুলে দিতে পারেন।"
আল্লাহ – সারাবিশ্বের অধিপতি ও সৃষ্টিকর্তা
আল্লাহ হচ্ছেন সমগ্র জগতের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও একমাত্র অধিপতি।
মহাগ্রন্থ আল্ কুরআনের অসংখ্য আয়াতে এ সত্য সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, আকাশ, পৃথিবী, পাহাড়, নদী, সাগর, পশু-পাখি, মানুষ, জিন, ফেরেশতা - সবকিছুই আল্লাহরই সৃষ্টি। তিনি "রব্বুল ‘আলামিন" অর্থাৎ সমস্ত জগতের পালনকর্তা।
আল্লাহর ক্ষমতা সীমাহীন। তিনি যাকে ইচ্ছা জীবন দেন, যাকে ইচ্ছা মৃত্যু দেন, আবার মৃতকে জীবিত করতেও তিনি সম্পূর্ণরূপে সক্ষম। মানুষ যা কল্পনা করতে পারে না, তাও আল্লাহর ইচ্ছায় সম্ভব। তিনি অনন্ত জ্ঞানসম্পন্ন ও পরিপূর্ণ জ্ঞাত। তাঁর কোনও কিছুই অজানা নয়। একটি পাতা পড়লেও তিনি জানেন, সাগরের গভীরে একটি মাছের গতি হলেও তা তাঁর দৃষ্টির বাইরে নয়।
আল্লাহ সমস্ত সৃষ্টি নিজেই সৃষ্টি করেছেন কোনও সাহায্য ছাড়া। ফেরেশতারা তাঁর নির্দেশ পালন করে, জিন ও মানুষ তাঁর ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি। তিনি মেঘে জলধারা আনেন, বৃষ্টি বর্ষণ করেন, তাতে জমিন সবুজ হয়ে ওঠে। গাছপালা, শস্য, ফলমূল - all are manifestations of His mercy.
তিনি পাহাড় স্থাপন করেছেন যেন পৃথিবী ভারসাম্য না হারায়। নদী, সাগর ও ঝর্ণা সৃষ্টি করেছেন মানুষের উপকারের জন্য। আকাশে পাখি উড়ছে তাঁরই ব্যবস্থাপনায়। নীচে সমুদ্রে মাছ চলাচল করে, সবই তাঁর হুকুমে। সূর্য, চাঁদ, নক্ষত্র সবাই তাঁর নিয়ম মেনে চলে। তিনি সব কিছু পরিপূর্ণভাবে জানেন এবং প্রতিটি কণার ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
মানুষ কখনো ভুলে যায় যে সে নিজেও এক ক্ষুদ্র সৃষ্টি, যার সৃষ্টি হয়েছে মাটির উপাদান থেকে। কিন্তু মানুষকে জ্ঞান, বিবেক ও ইচ্ছাশক্তি দিয়েছেন - যাতে সে চিন্তা করে, শেখে এবং সঠিক পথ অবলম্বন করে। এই চিন্তাই মানুষের মাঝে আল্লাহর সত্ত্বা ও মহিমা উপলব্ধি করার বোধ জাগায়।
আল্লাহর কোনো অংশীদার নেই, তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কারো দ্বারা জন্মগ্রহণও করেননি। তাঁর কোনো ক্লান্তি নেই, ঘুম নেই, বিশ্রামের প্রয়োজন নেই। তিনি সৃষ্টিকে পরিচালনা করেন সর্বদা, সুশৃঙ্খলভাবে।
উপসংহার:
এই সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর আয়াতটি প্রতিটি মুমিনের জীবনে আশার বাতিঘর। এতে ঘোষণা আছে এক পরম সত্যের - আল্লাহর অসীম ক্ষমতা সম্পর্কে।
আল্লাহর মহানতা অনন্ত ও অপার। তিনি একমাত্র উপাস্য, একমাত্র আশ্রয়স্থল। তাঁর সৃষ্টি ও শাসনব্যবস্থা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমরা তাঁরই দাস। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা ও ভয় নিয়ে জীবন পরিচালনা করাই মানুষের মূল দায়িত্ব। প্রকৃতি, আকাশ-বাতাস, পশু-পাখি - সবই আমাদের চোখে আল্লাহর অস্তিত্বের নিরব সাক্ষ্য বহন করে।
এই বিশ্বাস আমাদেরকে শিক্ষা দেয়:
নির্ভরতা রাখো একমাত্র আল্লাহর উপর।
কোনো অবস্থাকে চূড়ান্ত মনে কোরো না।
দোয়া করো, কারণ দোয়ার মালিক তিনিই।
কর্ম করো, কারণ ফলাফল তিনিই নির্ধারণ করেন।
অতএব, মুমিনের হৃদয়ে যেন সব সময় এই আয়াতটি থাকে -
ইন্নাল্লাহা আলা কুল্লি - শাই’ইন কদির
“নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
আন্তরীক ধন্যবাদ,
MD KHALIL
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহী ওয়া বারাকাতু।

