মঙ্গলবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৪

ইয়্যা-কা নাবুদু ওয়াইয়্যা-কা নাসতাঈন


 ইয়্যা-কা নাবুদু  ওয়াইয়্যা-কা নাসতাঈন = আমরা তোমারই ইবাদত করি ও তোমারই সাহায্য প্রার্থী।

আউজুবিল্লাহি মিনাশ্শাইতোয়ানির রাজিম 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

সূরা ফাতিহার ৪নং আয়াত = ইয়্যা-কা নাবুদু  ওয়াইয়্যা-কা নাসতাঈন।

অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন এই পবিত্র আয়াত টির মধ্যে রয়েছে আন্তরীক ভাব, রূহানী প্রশান্তি পাওয়া যায় এই বাণী গুলো পাঠ করলে।

একমাত্র প্রশংসার অধিকারী সারা জাহানের রব, দয়াময় ও  অসীম দয়ালু, বিচার দিবসের মালিক যিনি, আমরা তারই ইবাদত করি এবং তারই সাহায্য কামনা করছি, অনেক জ্ঞানগর্ভ কথা/ বাণী এই আয়াতগুলো। 
নামাজের মধ্যে বা যখনি, এই আয়াতটি হৃদয়ের গভীর থেকে অর্থ উপলব্ধি করে তিলাওয়াত করলে প্রশান্তি পাওয়া যায়, দুচোখের পানি ধরে রাখতে পারবেন না, এটাই সত্য, আলহামদুলিল্লাহ।

হৃদয়ে জমানো শতব্যাথা, বেদনা,দুঃখ, কষ্ট, আশা, আকাঙ্ক্ষা, পাপ, অন্যায়, ক্ষোভ, রিজিক, অভাব, অসম্মান, চাওয়া পাওয়া সহ সমস্ত কিছুর মালিক যিনি, আমরা তারই ইবাদত করি এবং তারই সাহায্য চাচ্ছি, হৃদয়ের গভীর থেকে ধ্যানমগ্ন বান্দা যখনি এই আয়াত  তিলাওয়াত করে, রাব্বুল আলামীন অত্যন্ত খুশী হয়ে যান।

দয়াময় ও পরম দয়ালু, সারা জাহানের প্রশংসিত রব এবং বিচার দিনের মালিক তুমি আল্লাহ, আমরা তোমারই ইবাদত করি - তোমারই সাহায্য চাই, বান্দার আধ্যাত্মিক রুহুথেকে ক্রন্দনরত হৃদয়ের বাণী পাঠ করার সাথে সাথেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তা পূরন করে দেন, হাসবিয়াল্লাহ, আল্লাহ-ই যথেষ্ট।



নিজ কথা : আমি দেশের সেরা মসজিদগুলোতে জুম্মার নামাজে দেখেছি খতীব, মাওলানা, শায়েখ, ইমাম সাহেবদের এই আয়াতটি পাঠ করেন ২ থেকে ৩ বার, আয়াতের গুরুত্ব অনুধাবন করে তারা দুচোখের পানি ছেড়ে দিয়েছেন, অঝরে কাঁদতে থাকেন।
পরবর্তীতে আমি নিজেও এর সত্যতা অনুভব করি, আলহামদুলিল্লাহ,অনেক,অনেক রহমতে ভরা এই পবিত্র আয়াতটি।

দুনিয়াতে মানুষের জীবনে বিভিন্ন ও বিচিত্র রকম ঘটনা ঘটে,কেউ সাংসারিক জীবনে দুঃখী, কেউবা ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় দুঃখী তো কেউ অসুস্থ হয়ে দুঃখী,কেউ অভাবে দুঃখী কেউবা প্রিয়জনকে না পেয়ে দুঃখী, কেউবা প্রিয়জনের কাছ থেকে কষ্ট পেয়ে দুঃখী,কেউবা ব্যবসার লোকসানে দুঃখী তো কেউ একটা ভাল চাকরির আশায় দুঃখী, আবার কেউ জানতে/অজান্তে গুনাহ মাফের আকাঙ্ক্ষায় দুঃখী, কেউবা পিতা মাতার স্বরণ করে দুঃখী।

শত দুঃখ কষ্ট নিয়ে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে যদি আবেগ আপ্লুত হয়ে, অন্তর থেকে এই আয়াতটি পাঠ করা যায় - ইয়্যা-কা নাবুদু ওয়াইয়্যা-কা নাসতাঈন, আমরা তোমারই ইবাদত করি ও তোমারই সাহায্য প্রার্থী, রাব্বুল আলামীন সাথে সাথে সে আশা পূরণ করেন।

উম্মুল কুরআন সুরা ফাতিহায় বর্ণিত এই আয়াত গুলো পৃথিবী বিখ্যাত অনেকেই এর ফজিলত ও বরকত ব্যাখ্যা করেছেন,  হাদীস বিশারদদের মধ্যে বেশির ভাগই এই আয়াতের গুরুত্ব অনুধাবন করে, সূরা ফাতিহায় বর্ণিত প্রথম ৪ টি আয়াতকে ইছম আজম বলে আখ্যায়িত করেছেন। 



যেহেতু,  এই ৪টি আয়াতের মধ্যে রয়েছে আল্লাহ পাক এর প্রশংসা, সৃষ্টি জগতের বিশালতা, রাজত্ব, দয়াময় দয়ালু, সত্য ও ন্যায় বিচারের কঠোরতা, আধিপত্য, ইবাদতের যোগ্য, দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণে সাহায্য প্রার্থনা, আন্তরিক চাওয়া পাওয়া সংযোজিত হয়েছে, পবিত্র আল্ কুরআনের সর্বপ্রথম এই বাণী গুলোই ইছম আজম।

আল্লাহ পাক এর প্রশংসা ও গুণগান সম্বলিত অর্থবোধক বাণীর মারফতে, অলৌকিক সাহায্য প্রাপ্তির আয়াত গুলোকেই ইছম আজম বলা হয়, ইছম আজম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ, পরবর্তী কোন সময় ।

মূলকথা = পবিত্র দেহ-মনে দয়াময় আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন এর কাছে নেক নিয়তে যা চাইবে তাই পাইবে, কাউকে তিনি আল্লাহ দুনিয়াতেই দিয়ে দেন, আবার কাউকে আখেরাতে দেওয়ার জন্য জমা রেখে দেন, তবে অবশ্যই দেন। আলহামদুলিল্লাহ।

বান্দা যখন তার মালিককে ডাকে - আর রাহমান, আর রাহিম, কতযে রহমতে ও নেয়ামতে ভরা কলিজা ঠান্ডা করা বাণী স্বয়ং আল্লাহ পাক আমাদের শিক্ষা দিচ্ছেন, এই আয়াত যদি অর্থসহ অন্তরে অনুভব করা যায় তাহলে স্পষ্টভাবে বুঝা যায় আধ্যাত্মিক শান্তি কি ও কত প্রকার।

 Discover unknown truth in THE HOLY QURAN এ , আমি সহজ সরল বাংলা অর্থসহ আল কুরআনের বাণী গুলো অন্তরের গভীর থেকে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছি, ভুলক্রটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

বাস্তব জীবনে দেখুন = নামাজ আদায় করছি, সূরা ফাতিহা তিলাওয়াত করছি, প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করছি ঠিকই, কিন্তু অন্তরাত্মা থেকে অর্থ উপলব্ধি করতে পারছি না, যখনি তিলাওয়াত করছি মুখস্থ ছড়া বা কবিতার মতো পাঠ করছি।

সূরায় বর্ণিত আয়াত গুলো অর্থসহ হৃদয়ের গভীরে অনুভব করতে পারছি না শতকরা ৯৫ জনই, এটাই বাস্তব সত্য, চর্চার অভাবেই এমনটি হয়ে যাচ্ছে। 
আজ যদি আরবী তিলাওয়াত বা উচ্চারণের পাশাপাশি, বাংলা অর্থের চর্চা বাধ্যতামূলক থাকত, তাহলে বাঙালির নামাজ হোত মক্কা এবং মদীনা বাসীদের মত, মসজিদে সূরা ফাতিহা শুরু হওয়ার সাথে সাথে কান্নার আওয়াজ শোনা যেত, মুসুল্লিদের দুচোখ ভরে যেত পানিতে

প্রতিটি মানুষ আধ্যাত্মিক হয়ে আল্লাহর সাথে কথা বলত, আর চাইতো , ইয়্যা-কা নাবুদু ওয়াইয়্যা-কা নাসতাঈন = আমরা তোমারই ইবাদত করি আর শুধুমাত্র তোমারই কাছে সাহায্য চাই, এ মালিক দয়াময় আমার মনের আশা পূরণ করে দেন, হাসবিয়াল্লাহ, দয়াময় আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন সর্বদা প্রস্তুত থাকেন তার বান্দাদের সাহায্য করার জন্য, দান করেন তার অফুরন্ত ভান্ডার থেকে। 
কারণ,
 


কারণ = রাব্বুল আলামীন বলেন,  
তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব ।

 সূরা গাফির, আয়াত - ৬০ ।


পিতার কাছে যদি কোন সন্তান কিছু আবদার করে কিছু চায়, আন্তরিকভাবে যে কোন প্রকারে হোক বাবা তার সন্তানের চাহিদা পূরণ করে দেন, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ জীব ইনসানের রূপে, সবচেয়ে সুন্দর আকৃতি দিয়েছেন, সারা জাহান সাজিয়েছেন মানুষের জন্য, শুধুমাত্র আমরাই না, সারা জাহানের সমস্ত জীবের রিজিকদাতা, দয়াময় ও পরম দয়ালু, মানুষের চেয়েও সত্তর হাজার গুন বেশি আল্লাহর রহমতের মায়া, মমতা ও বান্দার প্রতি আল্লাহর এহসান, ভালবাসা, ফেরেশতা দের কোনো কিছু চাওয়া পাওয়ার সুযোগ নেই যেখানে মানুষের আছে, আল্লাহ পাক ফেরেশতা দের থেকেও বেশি কাছাকাছি হয়েছেন ইনসানের, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মেরাজ এর মাধ্যমে, তিনিই দয়াময় পরম করুণাময় আল্লাহ, তাইতো রাব্বুল আলামীন বান্দার ডাকে সাড়া দেন ঠিকই আমরা ধ্যানমগ্ন হয়ে তার সাথে কথা বলতে পারি না।
সুতরাং ভুল আমাদেরই, আমরাই আন্তরীকভাবে চাইতে জানি না, রহমান দয়াময় আল্লাহ পাক অবশ্যই দিবেন।

আমরাই তো আল্লাহর সাহায্য চাইতে পারছি না, তিনি কিভাবে দিবেন, কি দিবেন?

মুখে মুখে মুখস্থ বলছি ঠিকই ইয়্যা-কা নাবুদু ওয়াইয়্যা-কা নাসতাঈন, কিন্তু ধ্যান চলে যাচ্ছে অন্য জায়গায়, চিন্তা করছি অন্য কিছু, মুখে বলছি এককথা অথচ চিন্তা করছি অন্য কথা, মুখে পড়া বাণীর সাথে নফসের চিন্তাশক্তির মিল থাকতে হবে, তবেই রূহানী প্রশান্তি পাওয়া যাবে।

সুতরাং, নিজ কন্ঠে উচ্চারিত আল্ কুরআনের আয়াতের শাব্দিক অর্থ বুঝে, পবিত্র রূহ থেকে ধ্যানমগ্ন হয়ে আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ কারী বান্দাই সাহায্য পাওয়ার যোগ্য, রাব্বুল আলামীন তাকেই তৎক্ষণাৎ দান করেন।



তাইতো এই আয়াতটি যখনি তিলাওয়াত করা হয় - ইয়্যা-কা নাবুদু ওয়াইয়্যা-কা নাসতাঈন = এ মালিক আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি, অন্য কারো নয়, তোমার কাছেই সাহায্য চাই, অন্য কারো কাছে নয়, তুমি আমাদের সাহায্য কর রাব্বুল আলামীন, তিনি অবশ্যই সাহায্য করবেন। কত মধুরতম বাণী এটি ? হৃদয়ের গভীরে প্রশান্তিতে ভরে যাবে।

শেষকথা:
আমরা সারা জাহানের প্রশংসিত রব, দয়াময় ও পরম দয়ালু, বিচার দিবসের মালিক এক আল্লাহর ইবাদত করি এবং তারই সাহায্য কামনা করি, রাব্বুল আলামীন আমাদের প্রার্থনা কবুল করুন। আমীন।

আসুন, আমরা সেই সত্বার ইবাদত করি অন্তরের অন্তস্থল থেকে, যিনি সর্বোচ্চ প্রশংসার অধিকারী, দয়াময় ও পরম দয়ালু, বিচার দিনের একমাত্র মালিক, সারা জাহানের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করি, দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যানে পবিত্র রূহ-কে বেহেশতের পথে পরিচালিত করি, আমীন ।

পরবর্তী আয়াত থেকে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ নিয়ে আসছি, ইনশাআল্লাহ, 
ইহ্দিনাস সীরাতাল মুস্তাকিম = আমাদের সোজা-সরল পথে পরিচালিত করুন।

আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহী ওয়া বারাকাতু।

মুহাম্মদ খলিল ।



বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪

মালিকি-ইয়াওমেদ্দীন = বিচার দিবসের মালিক।


মালিকি-ইয়াওমেদ্দীন =  বিচার দিবসের মালিক।



আঊযুবিল্লাহি মিনাশ্শাইত্বোয়ানির রাজিম। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।


মালিকি যিনি মালিক 

ইয়াওমেদ্দীনবিচার দিবসের/দিনের

বিচার দিবসের একমাত্র মালিক রাব্বুল আলামীন, দয়াময় আল্লাহ্। 

আরশ কুরসিতে বসে তিনি এককভাবে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন, আল্লাহর হুকুম ছাড়া সেদিন কেউ কথা বলতে পারবে না, তিনি আল্লাহ-ই সেদিন একমাত্র বিচারক, মহা বিচারপতি। 

এই সেই বিচার দিবস !

কেয়ামত বা মহাপ্রলয় সংঘটিত হওয়ার পর পরই বিচার দিবসের শুরু

সেদিন প্রতিটি মানুষকে নগ্ন অবস্থায় পুনঃজীবিত করা হবে, বধীর, বোবা, দৃষ্টিহীন ও দিশেহারা অবস্থায় কবর থেকে উঠে সমবেত হবে, বিচার দিবসের মালিকের সামনে আখেরাতের ময়দানে, রাব্বুল আলামীন সেদিন পুঙ্খানুপুঙ্খ/ কড়ায়গণ্ডায় (অনু পরিমাণ) হিসাব নিবেন

সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ আদমকে সেদিন তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হবে, মানুষের কৃতকর্মের/ভালমন্দের ন্যায় বিচার হবে, ইনসানকে সেদিন অণু/পরমানু পরিমাণ নেক বা মন্দ কাজের ১০০% প্রতিফল দেওয়া হবে

মূর্খেরাই জ্ঞান অর্জন করে না বা সত্য বোঝে না, সত্যকে মেনে নিতে চায় না

শুধুমাত্র জ্ঞানীরাই রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর দেখানো সুন্নত এর পথে চলে, বিচার দিবসের মালিকের সন্তুষ্টি অর্জনের আকাঙ্ক্ষায় সত্য সুন্দর পথে চলে, আল্ কুরআনের পথে চলে, দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণে নেক আমল করে, সীমিত খরচ করে, আল্লাহর রাস্তায় ধৈর্য্য ধারণ করে, অপরকে সাহায্যকারী ও দানশীল হয়, আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে কলুষমুক্ত করে

দুনিয়াতে যে ন্যায়বিচার পায়নি, সেদিন তার প্রতি ন্যায্য বিচার হবে 

সেদিন বিচার হবে, লোভ, লালসার, অহংকারীর, অন্যের সম্পদ ভোগকারীর, পাথরসম কলুষিত হৃদয়ের মানুষগুলোর, বিচার হবে Bank balance এর, মালিক সেদিন বিচার করবেন মন্দ ক্রেতা/ বিক্রেতার, দুনিয়াতে যারা একে অপরকে ঠকিয়েছে তাদের, সেদিন বিচার হবে ন্যায্য দামের, বিচার হবে ওজনে কম দেয়ার, মহান রব সেদিন বিচার করবেন খাদ্যে ভেজাল মিশ্রন কারীর

বিচার দিবসে রাব্বুল আলামীন বিচার করবেন হালাল/হারাম উপার্জন কারীর 

বিচার দিবসের একমাত্র মালিক আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সেদিন বিচার করবেন কলুষিত রুহের, সেদিন বিচার হবে অন্যের জমি ভোগদখল কারীর, বিচার হবে দলিলে ভেজাল কারীর, বিচার হবে গায়ের জোরে আধিপত্য বিস্তার কারীর, বিচার হবে গরীব/অসহায় এর প্রতি জুলুমকারীর। বিচার হবে মিথ্যুক এর, পরনিন্দাকারীর, দুনিয়াতে যে ছিল কুদৃষ্টিকারী তার চোখের বিচার হবে, বিচার হবে তার যে গিবত করেছে

বিচার হবে প্রতিটি অঙ্গের, বিচার হবে মানুষের মন্দ কাজে ব্যবহৃত অঙ্গ/প্রত্যঙ্গের,
আল্লাহ পাক সেদিন হিসাব নিবেন যৌবনকাল কিভাবে অতিবাহিত করেছে তার

সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ মালিক সেদিন তার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব ইনসানের নামাজের হিসাব নিবেন, সময় বেঁধে দেয়া ওয়াক্তেই কেন আল্লাহকে সেজদা করেনি তার হিসাব নিবেন। প্রমাণ স্বরূপ প্রতিটি মানুষের অঙ্গ/প্রত্যঙ্গ, এমনকি লোম পর্যন্ত সাক্ষী হিসেবে কথা বলবে, মালিক সেদিন তাদের জবান খুলে দিবেন


বিচার দিবসে মহান রাব্বুল আলামীন হিসাব নিবেন সম্পদশালীর, তাকে যে সম্পদ আল্লাহ দিয়েছিল তা সে কোনপথে ব্যয় করেছে

সন্তানদের কোন পথে পরিচালিত করেছে তার হিসাব নিবেন, দুনিয়াতে রেখে যাওয়া সম্পদ সন্তানরা কিভাবে এবং কোন্ পথে ব্যয় করবে সে শিক্ষা দিয়েছিল কি না তার বিচার হবে
হিসাব নিবেন Bank Balance  এর, জমা-খরচ এর

এইজন্যই আল্লাহ পাক স্পষ্ট বলছেন:   জেনে রাখো তোমাদের ধন, সম্পদ ও সন্তান সন্ততি হচ্ছে পরীক্ষা মাত্র।   সূরা আনফাল, আয়াত:২৮

সেদিন বিচার দিবসে ইনসানকে পূনঃর্জীবীত করা হবে, থাকবে না কোন আয়ুস্কাল, মৃত্যু হবেনা, অমর থাকবে, জান্নাত কিংবা জাহান্নাম হবে আবাসস্থল, এটাই আল্লাহর বিধান
মানুষের সত্য বিবেক সেদিন সত্য মেনে নিতে বাধ্য হবে, মিথ্যা সেদিন পরাজিত হবে, সত্যের জয় হবেই হবে

লোভ-লালসাহীন সুন্দর একটা অন্তর তৈরি করে,মালিক-এর প্রেমে মত্ত থেকে সর্বদা তার জিকির করে, সেজদা করে, ঠিকভাবে নামাজ আদায় করে, হালাল উপার্জনকারী, সত্যবাদী ইনসানের জন্যেই সেদিন মহাপুরস্কার, বিচার দিবসের মালিক সেদিন তাদের পুরস্কৃত করবেন, বেহেশতে প্রবেশ করতে বলবেন, মহা সুখের আবাসস্থলে মনে যা চাইবে তাই পাইবে তৎক্ষণাৎ

আর সবচেয়ে বড় রহমত-দয়াময় আল্লাহ্ পাকের মধুর কন্ঠে আল্ কুরআনের সূরা: আর রহমান এর তিলাওয়াত শুনতে পাওয়া, রাব্বুল আলামীন কে স্বচোক্ষে দেখতে পাওয়া, বিচার দিবসের পর এসব নেয়ামত দেয়া হবে নেক আমলকারী বান্দাদের

স্পষ্টভাবে আল্লাহ পাক বলছেন, আমারা কি বাংলাও বুঝিনা ? নাকি বুঝতে চাই না, বিচার দিবসে রাব্বুল আলামীনের সামনে কি নিয়ে দাঁড়াব, কতটুকু আমরা তৈরি আছি একবারও কি ভেবে দেখেছি

দুনিয়াতে ধন, সম্পদ প্রাচুর্যের লোভে মানুষ কি না করছে, সম্পদের লোভে মানুষের অন্তর কলুষিত হয় বেশি, ধীরে ধীরে তার অন্তরে মোহর পড়ে যায়, পাথর হৃদয় হয়ে যায়, গাফেল হয়ে শয়তানের অনুসারী হয়ে যায়

মালিকের নির্দেশে সেদিন ফেরেশতারা পাপী বান্দাদের শৃঙ্খলিত করে, মাথার চুল আর পায়ের নোখ ধরে ধরে ছূড়ে মারবে জাহান্নামের আগুনে, যে আগুনের তাপ দুনিয়ার আগুনের চেয়ে ৭০ গুণ বেশি প্রখড়, তবুও মানুষের মরণ হবে না, অমর, মৃত্যুহীন জীবন




সেদিন বিচার দিবসে ডানহাতে আমলনামা গ্রহনকারী নেক আমলের বান্দাগন থাকবে আল্লাহর যিকির এ মত্ত, ইয়া নফস, ইয়া নফসি
সূর্য আর সেই নেক ইনসানের মাঝে মেঘের মত ছায়া দান করবে পবিত্র আল্ কুরআন, যে দুনিয়াতে আল্লাহর বাণীর মর্যাদা দিয়েছে, তিলাওয়াত করেছে, এবং সেই অনুযায়ী আমল করেছে, আল্ কুরআন সেই আমল কারীকে সঙ্গে করে বেহেস্ত পর্যন্ত নিয়ে যাবে

রাসুল( সঃ) এর প্রদর্শিত পথে নিজেকে পরিচালিত মানুষের মধ্যে, তৃষ্ণার্ত নেকীবান্দাকে সেদিন কাওছারের শীতল পানি পান করতে দেয়া হবে, হিসাব সহজ হয়ে আল্লাহর আরশের ছায়ায় অবস্থান করবে, পুলসিরাত এর পুল পার হয়ে কাঙ্খিত গন্তব্য বেহেশতে প্রবেশ করতে বলা হবে। ইহাই সেই বিচার দিবস
বেহেশতে ও মানুষের জীবন হবে অমর, মৃত্যুহীন পরলৌকিক জীবন, সুখ আর সুখ, কোনপ্রকার অসুখ তাদের হবেনা - সীমাহীন আনন্দ ও শান্তি তাদের জন্যই

তাইতো রাব্বুল আলামীন বলেন : পার্থিব জীবন ক্রিয়া কৌতুক ব্যতীত কিছুই নয়, পরলৌকিক জীবনই তো প্রকৃত জীবন যদি তারা জানত।                        সূরা আনকাবুত, আয়াত: ৬৪ । 

 স্পষ্টভাবে আল্লাহ পাক বলছেন :

দুনিয়াতে ধন, সম্পদ প্রাচুর্যের লোভে মানুষ কি না করছে, সম্পদের লোভে মানুষের অন্তর কলুষিত হয় বেশি, ধীরে ধীরে তার অন্তরে মোহর পড়ে যায়, পাথর হৃদয় হয়ে যায়, গাফেল হয়ে শয়তানের অনুসারী হয়ে যায়

ধন সম্পদ ও প্রাচুর্যের লোভে মানুষ ভুলেই যায় যে, জীবনটা কত ছোট্ট, সময় খুব কম

ভেবে দেখুন, একদিন আয়ুস্কাল-এ মানুষ ২৪ ঘন্টার মধ্যে এ্যভারেজ ৮ ঘন্টা ঘুমায়, তাহলে ৬০ বৎসরের জীবনে মানুষ ২০ বৎসর-ই ঘুমায়, বা অচেতন অবস্থায় কাটিয়ে দিচ্ছে, কোথায় আছে সময়
বাকী ১৬ ঘন্টার মধ্যে ৮/১০ ঘন্টা কাটছে কর্মব্যস্ত জীবনে অর্থ উপার্জনে, ২৪ ঘন্টার বাকী ৬-৮ ঘন্টা পরিবার, পরিজন, সন্তানদের নিয়ে ভোগ বিলাস আর ছলনার মায়াজালে সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে,  অর্থ উপার্জনে এতটাই ব্যস্ত মানুষের কেউ কেউ সম্পদ ভোগ করার সময়ই পায়না, কোথায় সময় ?
কেউবা কম, কেউবা বেশি আয়ূ পাচ্ছি দুনিয়াতে, শিশু বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ পর্যন্ত আয়ুস্কাল-হঠাৎ, যে কোন মুহুর্তে আযরাঈল এসে যাচ্ছে জান্/ রূহ্ কবজ করতে, কোথায় সময় ?
চোখের সামনে চেনা জানা মানুষগুলো একে একে কবরবাসী হয়ে যাচ্ছে, গতকাল যে ছিল সাথে আজকে সে কবরবাসী, কোথায় সময় ? দুনিয়াতে আমাদের সত্যিই সময় খুব কম।

ভেবে দেখুন সাধারণ হিসাবে ৬০ বৎসর (এ্যভারেজ) জীবনে কতটা সময় পাচ্ছি ?

কত সুন্দর স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার পবিত্র বাণীর মারফতে, 

তাইতো রাব্বুল আলামীন স্পষ্টভাবে আল্ কুরআনে বলছেন :  তোমরা দুনিয়াতে অল্প সময়ই অবস্থান করেছিলে, যদি তোমরা জানতে।                                                                                                                         সূরা মুমিনুন। আয়াত: ১১৪ ।

সূর্যের প্রচন্ড প্রখড় তাপে সেদিন পাপী বান্দার মাথার মগজ টগবগিয়ে ফুটতে থাকবে, পানির পিপাসায় জিহ্বা নাভী পর্যন্ত বেড়িয়ে আসবে, তাদের দেয়া হবে ফুটন্ত গরম পানি, এই সেই বিচার দিবস



মালিক সেদিন হাসরের ময়দানে, সূর্যকে ইনসানের মাথার উপর, ১ মাইল দূরত্বে স্থাপন করবেন, সমতল ভূমির উপর মানুষকে সমবেত করা হবে নগ্ন অবস্থায়। কারো ডান হাতে অথবা কারো বাম হাতে আমলনামা (কৃতকর্মের দলিল) দেয়া হবে

এই সেই বিচার দিবস যার একচ্ছত্র অধিপতি একমাত্র আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন

বিচার দিবসের অধিপতি একমাত্র মালিক সেদিন বিচার করবেন কলুষিত রুহের।
সেদিন বিচার হবে দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচারের, বিচার হবে অন্যের ভিটামাটি নিজের প্রভাবে গ্রাসকারী ও ভোগদখল কারীর, বিচার হবে দলিলে ভেজালকারীদের, আধিপত্য বিস্তার কারীদের, গরীব/অসহায় এর উপর জুলুম ও নির্যাতনের কঠিন বিচার হবে

কেউ কেউ শুধরানোর ইচ্ছা থাকলেও আয়ুস্কাল-এ শুধরাতে পারে না, সময় পায় না, পথের দিশা খুঁজে পায়না, এভাবে যতক্ষণ না সে কবরবাসী হয়

তাইতো রাব্বুল আলামীন বলেন : প্রাচুর্যের লালসা তোমাদেরকে গাফেল করে রেখেছে, এভাবে একপর্যায়ে তোমরা কবরের সাক্ষাত লাভ করবে।                 সূরা তাকাসুর, আঃ ১-২ 

রহমান/ দয়াময় আল্লাহ্ সেদিন বিচার করবেন মিথ্যাবাদী মিথ্যুকের। সেদিন বিচার হবে কুদৃষ্টিকারীর - দুইনয়নের

বিচার দিবসে মহান আল্লাহ পাক এর দরবারে উপস্থিত হতে হবে - কৃতকর্মের জবাব দিতে হবে এটাই চিরন্তন সত্য। যে অগ্রাহ্য করবে, সত্য জেনেও মানতেই চাইবে না, মালিক এর আযাবকে ভয় করবে না, তাদের জন্যই সেদিন বিচার দিবসের ব্যবস্থা

এটাই আল্লাহর বিধান, অপূর্ণ সৃষ্টি সেদিন পূর্ণতা লাভ করবে - মনুষ্য সৃষ্টির শেষ গন্তব্য, বেহেশতে কিংবা দোযখে প্রেরণের মাধ্যমে সৃষ্টির সমাপ্তি ঘটবে

শেষ কথা:  আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেন বিচার দিবসে আমার/আপনার হিসাব সহজ করে দেন, ডানহাতে আমলনামা দেন, জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন, আমীন

আসুন,
আজ থেকে বিচার দিবসের জন্য তৈরি হয়ে যাই, জ্ঞানী হই, নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর শাফায়েত লাভ করতে পারি সেই উম্মত হই, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কন্ঠে উচ্চারিত আল্ কুরআনের বাণীকে নিজের জীবনে প্রতিষ্ঠিত করি, আমল করি, সহজেই বিচার দিবস পাড়ি দিয়ে পূলসিরাত পাড় হতে পারি। মালিক আমাদের সেই তৌফিক দান করুন, আমীন

পরিশেষে বলতে চাই :

সাচ্চা ইনসান ওহেয়্, যো আপনী পিছে মুঢ়কর দেখে, অওর আপনী কিয়েহুয়ে ভুলকো সূধারে   =   ( সত্যিকার মানুষ সেই, যে নিজের অতীতে ফিরে তাকায়, আর নিজের কৃত ভুলকে সংশোধন করে )
কেউ কেউ শুধরানোর ইচ্ছা থাকলেও আয়ুস্কাল-এ শুধরাতে পারে না, কোথায় সময় ?

বন্ধুরা, Discover unknown truth in "THE HOLY QURAN" এ আমি আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে সাধারণ ভাষায় অনেকের কাছে জানা, আবার অজানা সত্য তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি, ভুলক্রটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন, আল্লাহ পাক আমাকে ক্ষমা করেন, আল্লাহু-মাগফিরলী = হে আল্লাহ্ ক্ষমা করুন

পরবর্তী আয়াত:  ইয়া-কা নাবুদু  ওয়াইয়া-কা নাসতাঈন আমরা তোমারই ইবাদত করি ও তোমারই সাহায্য প্রার্থী

এই আয়াতটির গভীরতা ও বিশালতা অশেষ, কতযে রহমতে ভরা এই অলৌকিক বাণী, ভাষায় ব্যক্ত করা কঠিন, তারপরও আমি আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে সাধারণ ভাষায় বলার চেষ্টা করছি

রাব্বী যিদনী ইলমা = হে রব জ্ঞান দান করুন


আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহী ওয়া বারাকাতু 

মুহাম্মদ খলিল



বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০২৪

আলহামদুলিল্লাহি রব্বীল আ-লামীন।


 আঊযুবিল্লাহি মিনাশ্শাইত্বোয়ানির রাজিম

 বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম



সর্বপ্রথম,  যে আয়াত টি মহাগ্রন্থ আল্ কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, সেই আয়াত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব ইনশাল্লাহ, আশ্চর্যের বিষয় হলো এই এতবড় এবং অশেষ রহমতে ভরা অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন, প্রথম বাক্যের অর্থ, ফজিলত, ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ খুব কমই দেখা গেছে, 
আসুন দেখি পড়ে বুঝার চেষ্টা করি যে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ পাক আমাদের কি বোঝাতে চেয়েছেন।

আলহামদুলিল্লাহি রব্বীল আ-লামীন

আলহামদু = সমস্ত প্রশংসা 
লিল্লাহি = আল্লাহর 
রব্বীল = যিনি রব
আ-লামীন = সারা জাহানের 

মূল অর্থ = সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি সারা জাহানের রব

আলহামদুলিল্লাহি = সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর,
রব্বীল আ-লামীন = যিনি সারা জাহানের রব

আল্ কুরআনের সর্বপ্রথম সূরা-ফাতিহা, এই সূরা কে উম্মূল কুরআনও বলা হয়।

সূরা ফাতিহার শুরু এই সর্বপ্রথম বাক্যেটিতে, পরম করুণাময় আল্লাহ আমাদের কি বোঝাতে চেয়েছেন, একটুখানি আন্তরিকভাবে অনুভব করার চেষ্টা করি।

আল্লাহ বলছেন, 
আলহামদুলিল্লাহি রব্বীল আ-লামীন = সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি সারা জাহানের রব = দয়াময় আল্লাহ পাক তার বান্দাদের শিখিয়ে দিচ্ছেন যে কিভাবে তার প্রশংসা করতে হয়

সারা জাহানে যদি কেউ সর্বোচ্চ প্রশংসার অধিকারী হয় বা থাকে সে আমাদের রব - তার জন্যেই সমস্ত প্রশংসা



দয়াময় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সত্য পথ প্রদর্শক হিসেবে, আল্ কুরআন কে নাযীল করেছেন সে জন্য তিনি প্রশংসার অধিকারী, তাইতো তিনি প্রশংসিত রব

শেষ রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে শেষ উম্মতের জন্য দুনিয়াতে প্রেরণ, ও সারা জাহানের উম্মতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ, রাব্বুল আলামীন তাইতো প্রশংসিত, তিনিই মহান

মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মাধ্যমে, আল্ কুরআন-কে নাযীল করেছেন বলেই তিনি আল্লাহ পাক প্রশংসিত, প্রতিটি মানুষের নিকট প্রশংসিত

পাপী কিংবা নেক ইনসানের রিযিককের ব্যবস্থা করেন দয়াময় আল্লাহ্, তাইতো তিনি প্রশংসিত, যারা রবের প্রশংসা করেনা তারাই তো প্রকৃত জালিম ও নেমকহারাম

খূটি বিহীন আসমান, ছাঁদ বিহীন পৃথিবী সৃষ্টি, সূর্যের আলো, চাঁদের কিরণ দিয়ে, মেঘ থেকে বৃষ্টি দানে যমিনকে উর্বর রাখেন তিনিই মহান আল্লাহ, সমস্ত প্রশংসা রাব্বুল আলামীনের

বিভিন্ন রকমের মাটিতে বিভিন্ন রকমের ফসল উৎপাদন করান সুনিপুণ সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ কারিগর মহান রাব্বুল আলামীন, তাইতো তিনি প্রশংসিত রব, দয়াময় আল্লাহ

তারই আধিপত্য সমগ্র জাহানে, দৃশ্য ও অদৃশ্যের মালিক এক আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। সারা জাহান বলতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন, সমগ্র জাহানে তার ই রাজত্ব



দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞান একমাত্র তারই

দৃশ্যমান = মানুষ, পশু, পাখী, কিটপতঙ্গ, গাছপালা, জমিনের অবকাঠামো, পাহাড়, নদী, মহাসাগর, সূর্য, চন্দ্র, আলো অন্ধকার সহ আরো অনেক কিছুই যে দৃশ্যমান তা আমরা অনেকেই জানি, এগুলো সারা জাহানের মালিকের রাজত্বে দৃশ্যমান। এই প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের

তদ্রূপ,
অদৃশ্যের জ্ঞানী সৃষ্টি তারই, তিনিই রব, একমাত্র আল্লাহ্

অদৃশ্য সৃষ্টি = মানুষের রূহ, মানুষের ইলম/জ্ঞান, মানুষের শ্বাস/নিঃশ্বাস,  গর্ভস্হান এর ভিতরে সৃষ্টির সময়কাল, বাতা , জ্বীন-জাতি, ফেরেশতা জাতি, ইবলীশ শয়তান, কবরজীবন, আখেরাত, বেহেস্ত, দোযখ, সাত আসমান এমনকি আল্লাহর আরশ, এগুলো গায়েবি বা অদৃশ্য সৃষ্টি মহান রাব্বুল আলামীনের, তাইতো তিনি প্রশংসিত রব।
সমগ্র জাহান তার ই অধীন, তিনি-ই সমস্ত প্রশংসার অধিকারী, তাইতো বলতে হয় আলহামদুলিল্লাহি রব্বীল আ-লামীন

রাতে ঘুমন্ত আমি ও আপনাকে সকালে কে জাগায় ? তিনিই মালিকিন্নাস = (মানুষের মালিক) ।

ভেবেছেন কি কখনো, ক্লান্ত, পরীশ্রান্ত, রাতে ঘুমন্ত মানুষটি যদি সকালে ঘুম থেকে না উঠত কি হোত ?
স্নিগ্ধ আবেশে, ক্লান্তি ঝড়িয়ে, ফুরফুরে মেজাজে, চাঙা দেহ মনে, নিষ্পাপ সূরতে সকালে তিনি তার বান্দাদের ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলেন, একমাত্র আল্লাহ্, তিনি প্রশংসার ঊর্ধ্বে।

আলহামদুলিল্লাহি রব্বীল আ-লামীন



পরিশেষেে : আমারা যদি হৃদয় ও মন দিয়ে এই আয়াত টির সরল বাংলা অর্থসহ বাস্তবজীবনে বর্ণনা, বিশ্লেষণ বোঝার চেষ্টা করি তাহলে অবশ্যই এটা বোধগম্য হবে যে, আলহামদুলিল্লাহি রব্বীল আ-লামীন আয়াত টির কত অশেষ রহমত, এ আয়াতের জিকির করা প্রতিটি বান্দার জন্য কতটা নেয়ামত পূর্ণ, কতটা অত্যাবশ্যকীয়

আসুন রাব্বুল আলামীনের জিকির করি, আলহামদুলিল্লাহি রব্বীল আ-লামীন

রাব্বী যিদনী ইলমা = হে আল্লাহ্ জ্ঞান দান করুন
Discover unknown truth in "THE HOLY QURAN" এ আমি যেন আমার সাধারণ, স্বাবলীল ভাষায়, পবিত্র আল্ কুরআনের বাণী মানুষের বোধগম্য করতে পারি, সেই ইলম আপনি আমাকে দান করুন, আলহামদুলিল্লাহি রব্বীল আ-লামীন। 

আমরা সৌভাগ্যক্রমে সর্বশেষ রাসূল হযরত মুহাম্মদ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) এর উম্মত হতে পেরে সৌভাগ্যবান, তাইতো তিনি মহা প্রশংসিত রব, দয়াময় রহমান

সারা জাহানে উন্মোচিত ইসলামকে একমাত্র শান্তির ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করায় তিনি প্রশংসিত রব, আলহামদুলিল্লাহি রব্বীল আ-লামীন

এই আয়াতের ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ লিখে শেষ করা যাবেনা

তাইতো মহান রব নিজেই নিজের প্রশংসা করে বলেন = সারা জাহানের গাছগুলো যদি কলম হোত, আর সাগরের ও সাত সমুদ্রের পানি যদি কালি হোত, তবুও তোমার রবের গুণগান/প্রশংসার বাণী লিখে শেষ হবেনা। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।   সূরা লুকমান, আয়াত - ২৭ ।

বন্ধুরা,
 এর আগের পোস্টে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম-এ রাহমানির রাহিম শব্দগুলো নিয়ে ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছি, তাইতো এবার পরবর্তী পোষ্টে এ ৩য় আয়াত নিয়ে আসছি 

মালিকি - ইয়াওমেদ্দীন = বিচার দিবসের মালিক

আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহী ওয়া বারাকাতু


মোহাম্মদ খলিল ।।।








মঙ্গলবার, ২ জুলাই, ২০২৪

WASSALATU - WAJJAKATA video

 WASSALATU - WAJJAKATA







ইসলামিক, ইসলামিক ভিডিও, ইসলামিক ভাইরাল ভিডিও, আউযুবিল্লাহি পাঠের ফজিলত, আল্ কুরআনের আলো, আল্ কুরআনের বাণী,#Quran #Islam #The truth on the way 

Discover unknown truth in "THE HOLY QURAN" is the best place to get true knowledge from THE HOLY QURAN in Bangla.
Discover unknown facts & feel fine from heart & soul,
LOVE each other as a brother & sister, may 'ALLAH' bless u as a Muslim.

If u sacrifice to anyone, "ALLAH" will sacrifice to u .

আসুন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহাগ্রন্থ এই মহাপবিত্র আল্ কুরআনে বর্ণিত আয়াত থেকে ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণের মাধ্যমে বাস্তব সত্য অনুধাবন করি, জান্নাতের পথে চলি, সারা জাহানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখি, 
প্রতিটি মানুষকে সত্যর বাণী শুনতে/ পড়তে সহযোগিতা করুন, ঈমানকে মজবুত করুন, দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ কামনা করুন।


ASSALAMUALAICUM - WA - RAHMATULLAHI WA BARAKATU.


বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন, ২০২৪

"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" ফজিলত, ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ ,



"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম"

পরম করুনাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

আমরা সকলেই জানি এই আয়াত টির বাংলা অর্থ, কিন্তু এই আয়াত এর মধ্যে রয়েছে যে কতটা অলৌকিক নেয়ামত তা কি জানি?

বিসমিল্লাহির : আল্লাহর নামে,

রাহমানির রাহিম : পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।

আরবি হরফ গুলো সাধারণত একটির সাথে অন্যটির সংযুক্তি বা ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, এজন্যে এই ভাষার আন্তরিকতা অন্তরে অনুভব হয়, মনমুগ্ধ হৃদয়ে প্রশান্তি পাওয়া যায় আল্লাহর রহমতে।

 বিসমিল্লাহ  : (আল্লাহর নামে শুরু করা), যে কোন কাজের শুরুতে, খাওয়ার শুরুতে, কোনো কিছু পান করার আগে, ঘর থেকে বাইরে যাওয়ার সময়, ঘরে প্রবেশের আগে, যানবাহনে উঠার আগে, বাজারে প্রবেশের প্রাক্কালে, রান্না শুরু করার সময়, কোনো কিছু কাটাকাটি করার আগে, অজু করার আগে, ঘর থেকে মসজিদের উদ্দ্যেশ্যে রওয়ানা দেওয়ার সময়, এমনকি পবিত্র বাণী আল্ কুরআন পাঠের পূর্বেও এই কালাম পড়া/বলা বা জিকির করা প্রত্যেক মমিন মুসলমানের অবশ্যই সুন্নতি দায়িত্ব।

এর কতটুকু আমরা মনুষ্য সমাজে মেনে চলছি ? বা এর প্রচলন বাস্তবায়িত করতে পেরেছি।

ভেবে দেখুন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জাগ্রত অবস্থায় যদি কোন মানুষ, যে কোন কাজের শুরুতে "বিসমিল্লাহ" বলে, তাহলে তার সেই কাজ সহজ হয়ে যায়, আল্লাহর রহমত ও কল্যাণ বর্ষিত হতে থাকে, কোনো শয়তানি শক্তি সে কাজের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে না, সর্বদা আল্লাহর নেক নজরে থাকেন, এমনকি সেই নেক আমল কারী আল্লাহর ফেরেশতা দ্বারা সুরক্ষিত থাকেন।

বিসমিল্লাহ এমন একটি শব্দ, বান্দা তার রবকে স্বরণ করার সাথে সাথে পরম করুণাময় আল্লাহ খুশি হয়ে যান, তৎক্ষণাৎ তার ডাকে সাড়া দেন।

আল্ কুরআনের ১১৪ টি সূরা -র  মধ্যে ১১৩ টি সূরা-তেই "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" দিয়ে শুরু করা হয়েছে, পবিত্র আল্ কুরআনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্বয়ং আল্লাহ পাক এই পবিত্র বাণীর যথার্থ মূল্যায়ন করেছেন।বান্দাদের ও আমলের মাধ্যমে এই পবিত্র বাণীর মূল্যায়ন করতে বলেছেন।

আল্লাহ পাকের সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি আদম, যদি সর্বাবস্থায় মহান রবকে স্বরণ করে এই পবিত্র বাণীর আমল করতো, আজ সারা জাহানে শয়তানের শক্তির বিকাশ ঘটত না।

সত্যি কথা বলতে কি, সারা দুনিয়ার বেশিরভাগ মানুষই কোনো কাজের শুরুতে "বিসমিল্লাহ" শব্দের উচ্চারণ করে না, আল্লাহর নামে শুরু করছি এই পবিত্র কথাটি বলে না, বা বলার অভ্যাস করেনা, কেউ কেউ জানলেও সঠিক সময়ে বলতে মনে থাকে না।
আর কম সংখ্যক মানুষের মধ্যে, ওলামায়ে মাসায়েখ, শায়েখ, খতিব, মাওলানা, ইমাম, হাফেজ ও মাদ্রাসা, মসজিদ, ঘরে, অধ্যায়নরত/আমলরত, আল্ কুরআনের অনুসারী, নিষ্পাপ শিশুদের নেক আমলের জন্যেই দুনিয়া আজও বিরাজমান, সালাম এইসব নেক আমল কারীদের।

পরম করুনাময় আল্লাহ্ যে বান্দার প্রতি কতটা মেহেরবাণ  তার প্রমাণ পাওয়া যায় পবিত্র আল্ কুরআনের সূরা আল্ রহমান এ, আল্লাহ্ পাক বলছেন : আর্ রহমান - দয়াময় আল্লাহ্।

সূরা ফাতিহা - আর্ রহমানীর রাহিম - পরম দয়াময় ও অসীম দয়ালু,

আল্লাহ্ পাক সর্বপ্রথম বেহেস্ত থেকে আদমকে করুণা/দয়া করলেন, আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা ভঙ্গের কারণে, মহান আল্লাহ করুনা/দয়া না করলে আদম (আঃ) দুনিয়াতে আসত না, আমার ও আপনার জন্ম হোত না, তাইতো আল্লাহ্ মেহেরবাণ, আল্লাহ্ পাক দয়ালু।

 রাহমানির রাহিম : ( ২ টি শব্দ ) রাহমান ও রাহিম।

শুধু রাহমান শব্দের অর্থ বিশ্লেষণ করতে গেলে লেখা শেষ হবেনা।

দয়াময়  অসীম দয়ালু আল্লাহ্ পাক এর করুণা ও দয়ার জন্যেই আজ আমরা মুসলমান এর ঘরে জন্মেছি, অমুসলিম-এর ঘরেও তিনি (আল্লাহ) আমাকে জন্ম/সৃষ্টি করতে পারতেন, দয়াময় রহমানের করূণায়/কৃপায় মুসলমানরা ধন্য, শুকরিয়া, বলুন আলহামদুলিল্লাহ।

শয়তানের কুমন্ত্রণায় বান্দা যদি কঠিন গুনাহও করেন, ক্ষমা চাইলে তিনি মাফ করেন, তাইতো তিনি দয়াময়

প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) কে, সর্বশেষ উম্মতের রাসুল হিসেবে প্রেরণ করা ও আমাদের উপর আল্লাহর রহমত।

আল্ কুরআন কে পথ প্রদর্শক ও সর্বশেষ আসমানী কিতাব হিসেবে প্রেরণ, ইনসানের উপর আল্লাহর রহমত, করূণা এবং দয়া।

১৮০০০ মাখলুকাত এর মধ্যে ইনসানকে সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ রূপদান, আমাদের প্রতি রাব্বুল আলামীনের কৃপা বা দয়া। কত মহান আমাদের রব

মাটি থেকে বিভিন্ন ফসল ও ফলমূল, শাকসবজি থেকে বান্দার জন্য রিজিকের সৃষ্টি-ও আদমের উপর আল্লাহর রহমত, দয়া ।

গাছ থেকে অক্সিজেন পাওয়া ইনসানের উপর আল্লাহর রহমত, সূর্য, চন্দ্র, আলো, বাতাস, পানি, নদী, সাগর, মহাসাগর, মাছ সহ হালাল পশু - প্রাণীর ভক্ষণ, বান্দার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ, দয়া ও রহমত ।

আকাশ থেকে বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে জমিনকে উর্বর রাখা বান্দার জন্য রাহমানির রাহিম এর বিশেষ দয়া।

ইবলিশ শয়তানের অনুসারী পাপীষ্ঠ বান্দা কেও পথে ফিরে আসার অপেক্ষায় রিজিক দান কারী - একমাত্র আল্লাহ্ এটাও বান্দার প্রতি আল্লাহর রহমত ও দয়া ।

নেক ইনসানকে দুনিয়াতে সন্মান ও আখেরাতে জান্নাত দান, দয়াময় আল্লাহর বান্দার জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার, রাহমানির রাহিম যে অসীম দয়ালু

মোটকথা : বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম এর ফজিলত, ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ লিখে শেষ করা যাবেনা।

পরম করুণাময়ের এই ঐশী বাণী আয়াত টিকে সারা জাহানের প্রতিটি ইনসান যদি নিজের মাঝে প্রতিষ্ঠিত করতেন, দুনিয়া হোত শান্তিময়।

শেষ কথা : আল্ কুরআনে বর্ণিত সত্য বাণীকে প্রতিষ্ঠা করে, সত্য জ্ঞানে জ্ঞানী হওয়া প্রতিটি ইনসানের পবিত্র ফরজ দ্বায়িত্ব, রাসুল ( সাঃ) এর উম্মত হিসেবে পবিত্র কর্তব্য।

নিজ কথা : দোষক্রটি মার্জনাহেতু সত্য বাণী প্রতিষ্ঠিত করার সুন্নাত আদায় করি।

বন্ধুরা, পরবর্তী আয়াত - সূরা ফাতিহা শুরু, আলহামদুলিল্লাহি রাব্বীল আলামীন, যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে বা পাশে থাকেন - সত্য জ্ঞান আবিস্কার করার, তাহলে ধারাবাহিক প্রচার করব ইনশাআল্লাহ

ধন্যবাদ।
@ আলহামদুলিল্লাহি রাব্বীল আলামীন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি সারা জাহানের রব

"আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহী ওয়া বারাকাতু"

Discover unknown truth in "THE HOLY QURAN"

MD KHALIL



বুধবার, ১৯ জুন, ২০২৪

আঊযুবিল্লাহি মিনাশ্শাইত্বোয়ানির রাজিম।

 




আঊযুবিল্লাহি মিনাশ্শাইত্বোয়ানির রাজিম। 


যে আয়াতটি মহাগ্রন্থ আল্ কুরআনে বর্ণিত হয়েছে সেই আয়াত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব ইনশাল্লাহ, আশ্চর্যের বিষয় হলো, এতবড় অশেষ রহমতে ভরা অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন, এই  বাক্যের অর্থ, ফজিলত, ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ খুব কমই দেখা গেছে, 

আসুন দেখি পড়ে বুঝার চেষ্টা করি যে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ পাক আমাদের কি বোঝাতে চেয়েছেন;

 রাব্বী যিদনী ইলমা : হে রব (আল্লাহ) ইলম দান করুন,এই ৩ টি শব্দের অর্থের ও ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ অপরিসীম, যা আলোচনার জন্য বিশেষ প্রয়োজন।

পর্যায়ক্রমে আল্ কুরআনে বর্ণিত আয়াত থেকে ব্যাখ্যা, অর্থসহ বাস্তবজীবনে সত্য প্রতিফলিত বিচার বিশ্লেষণ নিয়ে আলোচনা করব, ইনশাল্লাহ অলৌকিক প্রশান্তিতে ভরে যাবে অন্তর, চলুন জান্নাতের পথে, অন্তরে অনুভব করুন সত্য যে কত সুন্দর, মিথ্যা যে কতটা ঘৃনীত।

১) আউযুবিল্লাহি : আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই,

২) মিনাশ্শাইতোয়ানির রাজিম:শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে

তাহলে পুরো বাক্যটি কি হল - শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।

একবারও কি ভেবেছেন এ আরবি শব্দ গূলোতে কি বলছি, 

 আউযুবিল্লাহি: সারা জাহানের সমস্ত কিছুর সৃষ্টিকর্তা, জীবন ও মৃত্যু দানকারী, আসমান ও জমিনের সৃষ্টিকারী, শয়তান ও ইনসানের রুহুদানকারী,  মহান দয়ালু আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, এক আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি, যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালl

মিনাশ্শাইতোয়ানির রাজিম :

সর্বপ্রথম যখন আল্লাহ পাক আদম সৃষ্টি করলেন, তখন থেকেই শয়তান আদমের প্রকাশ্য/ অপ্রকাশ্য শত্রু, আল্লাহ পাক এর কাছে কসম খাওয়া আদমের ১ নং দুশমন, এ কথা আমরা সকলেই জানি, কিন্তু গভীরে ঢুকে অনুভব করতে পারিনা।

শয়তান দুনিয়াতে আদমের সাথে শয়তানি করবেই, আর পরম দয়ালু আল্লাহ পাক তার  বান্দাদের প্রতি সহায় হবেন, আশ্রয় দিবেন, এমনকি আল্লাহ পাক এর বাহিনী (ফেরেশতা) দিয়ে পাহারা দেয়া হবে সেই বান্দাদের। 

কত বড় নেয়ামত এ অলৌকিক ৩ টি শব্দচয়ন-এ, এ তো গেল ইবলীশ শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা পাওয়ার গাইবী উপায়, বাস্তব দুনিয়াতে Indirectly শয়তান তার বিনাশ কার্যক্রম পরিচালনা করছে, আদমের মস্তিষ্কে ঢুকে পড়ছে,  সমস্ত কিছু যা খারাপ আছে ইনসানের জন্য, সব তার কাছে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করছে, আদমকে লোভনীয়, মিথ্যুক, অহংকারী করে তুলছে, সদা অপবিত্র থাকার ফলে আদম, শয়তানের কুমন্ত্রণায় তারচেয়ে-ও বড় শয়তান হয়ে যাচ্ছে, সে আদম সন্তান হয়ে যাচ্ছে নৃশংসতার নরপশু, পশুরাও এতটা পাশবিক নয়, যতটা মানুষ, ছোট থেকে বড় সব ধরনের গুনাহের কাজ শয়তানের কুমন্ত্রণায় নির্দ্বিধায়  করে যাচ্ছে, ক্রমাগত শয়তান তার দুনিয়া, আখেরাত নষ্ট করছে।

মানুষ মানুষের জন্য শান্তি বিনষ্ট কারী অসামাজিক জীব হয়ে উঠছে

ঘর থেকে দেখুন - অভাবের শয়তানি, স্বামী - স্ত্রীর মাঝে শয়তানি, ভাই - বোনের মধ্যে শয়তানি, বাজারে শয়তানি, অফিসে বাড়তি ইনকামের লোভে পড়ে শয়তানি, চা দোকানে গিবত করা শয়তানি, আরোও হাজারও ব্যাখ্যা আছে ইনসানের অপবিত্র থাকার ফলে শয়তানের কুমন্ত্রণার কার্যকলাপ সমন্ধে। খেলার মাঠে জয়ের শয়তানি, রাজনীতিতে ধর্ শয়তানি, পথে, ফুটপাতে ক্রয়/বিক্রয়ে শয়তানি

এমনকি এই ইবলীশ শয়তান মানুষের নামাজ আদায় করার সময়-ও অপ্রকাশ্য অন্তরে দিকভ্রষ্ট করায়, নামাজে বাধা দেয়, অন্তরে নানা ধরনের কুচিন্তা আনয়ন করে, বান্দাদের তার নেক আমল থেকে বিরত রাখার প্ররোচনা দেয়।

একবারও ভেবেছেন কি শয়তান আমাদের কি ভাবে চারিদিক থেকে নিরব ক্ষতিসাধন করছে?

এমন কোন জায়গা নেই যেখানে ইবলিশ প্রবেশ করতে পারে না, এই ক্ষমতা টুকুন ও ইবলিশ আল্লাহর কাছে চেয়ে নিয়েছিল, তবে যে রুহ দয়াময় আল্লাহর জিকির/ গুনগানে মগ্ন থাকবে সে রুহের কোন ক্ষতি করতে পারবে না, এ কথা ও আমরা সকলেই জানি।

কিন্তু ভেবেছেন কি কয়টা রুহ পাক -পবিত্র থেকে আল্লাহর জিকির/গুনগান করছি ?

খুব কমই পাবেন, কিন্তু তাদের  নেক আমল এত ভারী যে তাদের জন্যই পুরো জাতি আল্লাহর রহমতের ছায়ায় থাকেন, সে জাতিকে আল্লাহ গজব দেন না।

আল্ কুরআনে  বর্ণিত : শয়তানের প্ররোচনায় মত্ত এমন অনেক জাতিকে আল্লাহ ধ্বংস করে দিয়েছেন, পুরো শহর উল্টে দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোতে এরকম অনেক বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায়।

তাহলে দেখুন, ইবলিশ মানুষের মধ্যে শয়তানি কুমন্ত্রণার কার্যকলাপ চালিয়ে যায়, ব্যাক্তি থেকে ঘর, পাড়া প্রতিবেশী, গ্রাম, ইউনিয়ন, থানা, উপজেলা, জেলা, শহর, বন্দর, মহানগর, ক্রমশই দেশ ও জাতিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।

আমার/আপনার মহান রব, দয়াময় আল্লাহ যে গায়েবের - ও মালিক, আদমের সৃষ্টিলগ্ন থেকে কেয়ামত, তারপরে কবর, আখেরাত, বিচার দিবস, বেহেস্ত, দোজখ, শয়তান কে বলি দেওয়া, সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে শুধুমাত্র একক আল্লাহ্ থাকবেন।

গায়েবের রহস্য তিনি ছাড়া কে ভাল জানেন ?

সৃষ্টির শুরু থেকেই শয়তান আদমের প্রকাশ্য/অপ্রকাশ্য চির শত্রু জেনেই, মহান রব সর্বপ্রথম শয়তান থেকে রক্ষা পেতে এই বাণী আদমকে পড়তে বললেন, পরবর্তী সময়ে নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মাধ্যমে নাজিল হয়ে,পবিত্র আল্ কুরআনে প্রতিষ্ঠিত হয়।

ভেবেছেন কি ? এই ইবলীশ শয়তান পবিত্র আল্ কুরআন পাঠের সময় - ও মনুষ্য অন্তরে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে! তাইতো সবজান্তা মহান আল্লাহ এই পবিত্র বাণী বাক্যটিকে পবিত্র আল্ কুরআনে  রেখেছেন বা রাখার ব্যবস্থা করেছেন।

বান্দার মঙ্গলার্থেই দয়াময় আল্লাহ্ এ কাজটি করেছেন।

বান্দা যখন তার মালিককে ডাকে, তখন তিনি খুশি হয়ে যান, শয়তান চলে যায় নিরাপদ দূরত্বে, আল্লাহ্ পাকের নূরের আশ্রয়ে চলে যান সে ব্যাক্তি, সম্পুর্ন নিরাপদ।

আউজুবিল্লাহি মিনাশ্শাইতোয়ানির রাজিম এর ফজিলত:

হাদীসে বর্ণিত: নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দেখলেন, দুজন ব্যক্তি একে অপরের সাথে প্রচন্ড ক্রোধে ঝগড়া করছিল, তিনি হযরত ওমর (রা:) কে বলে পাঠালেন যে, কেউ যদি এই আয়াত টি পাঠ করে তাহলে তার রাগ থেমে যাবে, ওমর (রা:) তাদের মাঝে গিয়ে  বললেন - কেউ যদি আউজুবিল্লাহি মিনাশ্শাইতোয়ানির রাজিম বলে, তাহলে তার রাগ থেমে যাবে, একথা শুনে একজন বললেন, আমি কি পাগল হয়েছি, অন্যজন বলতেই - তার রাগ থেমে গেল।

ওমর (রা:) পরবর্তীতে এই আমলের মাধ্যমে নিজের ক্রোধকে দমিয়ে রেখেছিলেন, তিনি ও বুঝতে পেরেছিলেন যে ক্রোধ ইবলিশ শয়তানের অস্ত্র, তাইতো তার মত ক্রোধি মানুষ ও নিজেকে সামলে নিতেন, সবর করতেন, সহ্য করতেন এবং আল্লাহর জিকির এ থাকতেন।

অশেষ ফজিলত এ আয়াতে:

আল্লাহ পাক যদি আপনার/ আমার সাথে থাকেন, সর্বদা দেখভাল করেন, আর কি চাই, এক একটি অক্ষরে ১ থেকে ১০, ১০ থেকে ১০০, ১০০ থেকে ৭০০ গুন নেকী আল্লাহ দান করতে পারেন, অবশ্যই আমলের গভীরতার উপর নির্ভর করে, সুতরাং অন্তর থেকেই এই আমলের গভীরতার মাধ্যমে শয়তান থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। 

সবখানে আজ শয়তানের আধিপত্য বিস্তার করছে, ব্যাক্তি থেকে জাতি, তারপর দেশ থেকে দেশ, এমনকি যেকোনো সময় বিশ্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, এই ইবলীশ শয়তানের অনুসারী সহচরেরা, এক আদম থেকে সৃষ্ট এই সেই মানুষ, সারা জাহানে নিজেদের মধ্যে যুদ্ধরত, শয়তান দুর থেকে তামাশা দেখে, আর মুচকি হাসে,

বান্দার প্রতি কতটা মেহেরবাণী জড়িয়ে আছে রাব্বুল আলামীনের, যে তিনি এই সত্য উপলব্ধি করেই আয়াত টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন ।

শেষ কথা: দয়াময় আল্লাহ্ আমাদের চির শত্রু শয়তানের সান্নিধ্যে আপ্যায়ীত না হয়ে, পবিত্র বাণীর মারফতে তার আশ্রয়ে থাকতে বলছেন নির্ভয়ে। 

এই আয়াত পাঠকারী থেকে দূরত্বে অবস্থানরত শয়তান, তার কোনোই ক্ষতি করতে পারে না, নিজের ক্রোধকে সংযত রেখে, পবিত্রতার সহিত "আউজুবিল্লাহি মিনাশ্শাইতোয়ানির রাজিম পাঠকারীর বিকাশে ভূমিকা রাখা প্রত্যেকের নিজস্বার্থেই প্রয়োজন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

এই আয়াত জিকিরকারী কোনো খারাপ বা মিথ্যার বশবর্তী হবে না, পাপকর্মে লিপ্ত হতে পারবে না, সুখ অনুভব হবে অন্তরাত্মায়, নিজের থেকে পরিবার তারপর আত্বীয় স্বজন, দেশ ও জাতি, ক্রমান্বয়ে সারা জাহানে সুখ, শান্তি ও আনন্দ বিরাজমান হোত।

মহান আল্লাহ পাক তার বান্দাদের প্রতি সহায়, যে, "আউজুবিল্লাহি মিনাশ্শাইতোয়ানির রাজিম" এই আয়াত বা বাণী দ্বারা শিক্ষা দিচ্ছেন প্রিয় বান্দাদের, সুন্দরের পথে দুনিয়াতে সুখ, আর মৃত্যুর পর জান্নাতের আশায়, মহান রবের আশ্রয়ে থাকতে বলছেন, শয়তান থেকে দূরে থাকতে বলছেন।

সমাজ গঠনে সহায়ক ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় হাতিয়ার এই আয়াত জিকিরকারী

অশেষ ফজিলত ও রহমতে ভরা অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন এই আয়াত টি আমল করা উচিৎ।

শেষ কথা হয়না শেষ, আল্ কুরআনের  বাক্য বা আয়াত নিয়ে আলোচনা করবো পরবর্তী সিরিজ এ , 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম এই আয়াত এর বাস্তব অর্থের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ নিয়ে আসছি "ইনশাআল্লাহ" ।  

আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহী ওয়া বারাকাতু।

মুহাম্মদ খলিল

Discover unknown truth in "THE HOLY QURAN"


ইন্নাল্লাহা আলা কুল্লি - শাই’ইন কদির

                                              إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ                 إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءقَد...